🔷 প্রারম্ভিকা:

কক্সবাজার, ২৪ মে: কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। রোববার বেলা ১১টার দিকে সংঘটিত এ ঘটনায় দুই স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা গুলিবিদ্ধ হন এবং আরও কয়েকজন আহত হন।

পুলিশ জানায়, কক্সবাজার সদরের ঝিলংজা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত আলী মেম্বার মামলায় হাজিরা দিতে আদালতে এসেছিলেন। হাজিরা শেষে বের হওয়ার সময় প্রতিপক্ষের লোকজন তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় বলে অভিযোগ ওঠে।

🔷 ঘটনার বিস্তারিত:

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আদালত প্রাঙ্গণে হঠাৎ দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মহিউদ্দিন ও রনি গুলিবিদ্ধ হন। এছাড়া আরও তিনজন আহত হন বলে জানা গেছে।

আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। ঘটনার পর আদালত এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে কিছু আলামত সংগ্রহ করেছে বলে জানা গেছে। তবে উদ্ধারকৃত অস্ত্র বা গুলির খোসা সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

🔷 ঘটনার উক্তি:

এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন,
“হঠাৎ করেই কয়েকজনের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এরপর গুলির শব্দ শুনে সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।”

আরেকজন বলেন,
“আদালত এলাকায় এমন ঘটনা আগে খুব কম দেখা গেছে। মুহূর্তেই পুরো এলাকায় বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়।”

🔷 পটভূমি:

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এলাকায় রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। আদালতে হাজিরাকে কেন্দ্র করে সেই বিরোধ নতুন করে সংঘর্ষে রূপ নিতে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত কোনো বক্তব্য দেয়নি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

🔷 পারিবারিক মন্তব্য:

গুলিবিদ্ধ এক নেতার স্বজন বলেন,
“আমরা চাই দ্রুত দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হোক। আদালত এলাকায় এমন হামলা উদ্বেগজনক।”

🔷 এলাকাবাসীর মন্তব্য:

স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন,
“আদালত চত্বরে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা দরকার। প্রকাশ্যে গোলাগুলির ঘটনা সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করেছে।”

🔷 আসামি পক্ষের বক্তব্য:

অভিযুক্ত পক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তবে পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় জড়িত সন্দেহে কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

🔷 প্রশাসনের বক্তব্য:

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অহিদুর রহমান জানান,
“ঘটনার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক করেছে। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।”

🔷 উপসংহার:

কক্সবাজার আদালত চত্বরে সংঘটিত এ গোলাগুলির ঘটনায় এলাকাজুড়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। আহতরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে। আদালত এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।