সাব-হেডলাইন:

 ডলারের শক্তিশালী অবস্থান ও সুদহার কমার সম্ভাবনা হ্রাসে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামে টানা পতন

প্রারম্ভিকা

ঢাকা, ২৫ মার্চ ২০২৬: আন্তর্জাতিক বাজারে টানা ১০ দিন ধরে সোনার দাম কমছে। মঙ্গলবারও এই ধারা অব্যাহত থাকে, যেখানে আউন্সপ্রতি সোনার দাম ১ শতাংশের বেশি কমে দাঁড়ায় ৪ হাজার ৩৪৭ ডলারে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন ডলারের শক্তিশালী অবস্থান এবং যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের (ফেডারেল রিজার্ভ) সুদহার কমানোর সম্ভাবনা কমে যাওয়াই মূলত এই পতনের প্রধান কারণ।

ঘটনার বিস্তারিত

নিউইয়র্কের বাজারে মঙ্গলবার সকালে সোনার দাম আউন্সপ্রতি ৫২ ডলার ৪৯ সেন্ট বা ১.১৯ শতাংশ কমে। গত এক মাসে সোনার দাম কমেছে ৮০১ ডলার ৪৭ সেন্ট, যা প্রায় ১৫.৪০ শতাংশ পতন নির্দেশ করে।

গতকাল দিনের শুরুতে সোনার দাম চার মাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে—৪ হাজার ৯৮ ডলার প্রতি আউন্স। পরে কিছুটা পুনরুদ্ধার হলেও বাজারে অস্থিরতা রয়ে গেছে।

এদিকে একই সময়ে চীনের শেয়ারবাজারেও বড় ধরনের দরপতন দেখা যায়, যদিও দিনের শেষে বাজার ঘুরে দাঁড়ায়।

পটভূমি

সাধারণত বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা ও যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সোনাকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে ধরা হয়। কিন্তু বর্তমানে ইরানকে ঘিরে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাতের মধ্যেও সোনার দাম বাড়ার পরিবর্তে কমছে।

এর কারণ হিসেবে বিশ্লেষকেরা বলছেন, ডলারের শক্তিশালী অবস্থান বড় ভূমিকা রাখছে। যেহেতু সোনার লেনদেন ডলারে হয়, তাই ডলারের মূল্য বাড়লে সোনার দাম বাড়া কঠিন হয়ে পড়ে।

এছাড়া জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদে উচ্চ সুদহারের প্রত্যাশাও সোনার বাজারে চাপ সৃষ্টি করছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মন্তব্য

বিশ্লেষকেরা মনে করছেন,

“স্বল্পমেয়াদে বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকি কমাতে বিকল্প সম্পদে ঝুঁকছেন, ফলে সোনার দামে ওঠানামা বাড়ছে।”

আরও বলা হয়,

“যদি যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হয় এবং বৈশ্বিক অর্থনীতি আরও চাপের মুখে পড়ে, তাহলে সোনা আবারও বিনিয়োগকারীদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে।”

সংশ্লিষ্ট পক্ষের অবস্থান

মার্কিন প্রশাসনের সাম্প্রতিক ঘোষণায় ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলার পরিকল্পনা স্থগিত রাখা হয়েছে। এই ঘোষণার পর সোনার দামে সাময়িক স্থিতিশীলতা দেখা গেলেও বাজারে বড় ধরনের উত্থানের ইঙ্গিত এখনো স্পষ্ট নয়।

অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর উচ্চ সুদহার নীতির কারণে সোনার প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কিছুটা কমেছে।

উপসংহার

বর্তমানে সোনার বাজার চাপে থাকলেও দীর্ঘমেয়াদে এটি এখনো নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে ডলারের শক্তিশালী অবস্থান ও সুদহার নীতির পরিবর্তন না হলে স্বল্পমেয়াদে সোনার দামে বড় ধরনের উত্থান সম্ভাবনা কম বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।